• হোম > অর্থনীতি > তেল-গ্যাস ও সার আমদানিতে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেবে বাংলাদেশ, আইটিএফসির সঙ্গে নতুন আলোচনা

তেল-গ্যাস ও সার আমদানিতে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেবে বাংলাদেশ, আইটিএফসির সঙ্গে নতুন আলোচনা

  • রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১৯:৩১
  • ৮৫

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। তেল, এলএনজি ও সার আমদানির জন্য এই অর্থায়ন ব্যবহার করা হবে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আইটিএফসির অর্থায়নের মুনাফার হার কমানোর পাশাপাশি দেশের যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) সদস্যদেশসহ বিশ্বের যেকোনো জ্বালানি-সমৃদ্ধ দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির সুযোগ রাখার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের জেদ্দায় ২১ থেকে ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক অর্থায়ন পরিকল্পনা সভায় এ প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সভায় আগামী অর্থবছরের চূড়ান্ত অর্থায়নের পরিমাণও নির্ধারণ করা হতে পারে।

খাতভিত্তিক অর্থায়নের পরিকল্পনা

প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বিপিসি ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার, এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলা ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং সার আমদানির জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ২০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন চেয়েছে।

বিপিসি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে তাদের অর্থায়ন চাহিদা ছিল ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী অর্থবছরে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

এলএনজি আমদানিতে বাড়ছে চাপ

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সংস্থাটি বিদ্যমান চুক্তির আওতায় অনুমোদিত পুরো ৬০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন ব্যবহার করতে চায়। বিশেষ করে কাতারএনার্জি, ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড এবং এক্সেলেরেট গ্যাস মার্কেটিং লিমিটেডের মতো কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করায় বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।

সার আমদানিতে নমনীয়তা চায় বিএডিসি

বিএডিসি জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার আমদানির জন্য অর্থায়নে আরও নমনীয়তা প্রয়োজন। বর্তমানে সৌদি আরব থেকে সার আমদানির জন্য নির্ধারিত ১০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আটকে আছে।

এ অবস্থায় বিএডিসি প্রস্তাব করেছে, অবশিষ্ট ২০০ মিলিয়ন ডলার দ্রুত ছাড় করে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে সার আমদানির সুযোগ দেওয়া হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থায়ন চুক্তিগুলোতে নির্দিষ্ট দেশের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইটিএফসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক

আইটিএফসি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ২০০৮ সাল থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা খাতে ধারাবাহিকভাবে অর্থায়ন করে আসছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত আইটিএফসি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে প্রায় ২১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে। এছাড়া এলএনজি ও সার আমদানিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সংস্থাটি।

অর্থায়নসীমা বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যমান অর্থায়নসীমা যথেষ্ট নয়। তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আইটিএফসির সামগ্রিক অর্থায়নসীমা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইআরডি কর্মকর্তাদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাও এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়। তাই আন্তর্জাতিক অর্থায়নের মাধ্যমে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12063 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 02:04:55 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh