• হোম > চট্টগ্রাম | বাংলাদেশ > বিশ্বব্যাপী অদক্ষতার সূচকই চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের বড় উৎস

বিশ্বব্যাপী অদক্ষতার সূচকই চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের বড় উৎস

  • রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১৪:৩৩
  • ৮৯

বিশ্বব্যাপী অদক্ষতার সূচকই চট্টগ্রাম বন্দরের আয়ের বড় উৎস

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে খালাস হওয়া কনটেইনার কত দ্রুত বন্দর ত্যাগ করতে পারছে, সেটিই আন্তর্জাতিকভাবে একটি বন্দরের দক্ষতা পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান রাজস্ব কাঠামোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর প্রতি টিইইউ (২০ ফুট কনটেইনার ইউনিট) থেকে বন্দরের গড় আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫২ ডলার, যার একটি বড় অংশই আসছে স্টোর রেন্ট থেকে। অর্থাৎ কনটেইনার দীর্ঘ সময় বন্দরে পড়ে থাকার কারণে যে চার্জ আদায় হয়, সেটিই এখন বন্দরের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাসে প্রতি টিইইউ থেকে গড়ে ৩৪.২৫ ডলার আয় এসেছে স্টোর রেন্ট খাত থেকে, যা মোট অপারেটিং রাজস্বের প্রায় ২২.৫২ শতাংশ। অন্যদিকে বন্দরের সবচেয়ে বড় আয় আসে কনটেইনার লোডিং-ডিসচার্জিং কার্যক্রম থেকে, যা প্রতি টিইইউতে গড়ে ৭১.৬৮ ডলার বা মোট আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ। এছাড়া কুই গ্যান্ট্রি ক্রেন (QGC) চার্জ, লিফট অন-লিফট অফসহ অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে।

তবে এই আয় কাঠামোর আড়ালে বন্দরের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। সাধারণভাবে একটি কনটেইনার বন্দরে তিন দিনের মধ্যে খালাস হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এটি গড়ে ৯.৫ দিন পর্যন্ত অবস্থান করছে। এই দীর্ঘ অবস্থানকালের পেছনে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে সময়ক্ষেপণ, প্রি-অ্যাসেসমেন্টের সীমাবদ্ধতা, গ্রিন চ্যানেলের সীমিত ব্যবহার এবং একাধিক সংস্থার সমন্বয়হীনতা বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কিছু আমদানিকারকও কম খরচে স্টোরেজ সুবিধা পাওয়ায় দ্রুত কনটেইনার ছাড়াতে আগ্রহ দেখান না।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত হলে একটি কনটেইনার গড়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে বহু ধাপে যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ফলে ইয়ার্ডে কনটেইনার জমে থাকছে, যা আবার স্টোর রেন্ট বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্দরের রাজস্ব বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টোর রেন্ট থেকে বেশি আয় কোনোভাবেই দক্ষতার ইতিবাচক সূচক নয়; বরং এটি সরবরাহ শৃঙ্খলের অদক্ষতার প্রতিফলন। হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিংয়ের মাস্টারপ্ল্যানেও বলা হয়েছে, কনটেইনারের অবস্থানকাল কমাতে পারলেই বন্দরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। কারণ একই অবকাঠামো দিয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা তখন সম্ভব হয়।

সার্বিকভাবে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র অবকাঠামোগত নয়, বরং প্রক্রিয়াগত দক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কনটেইনার দ্রুত খালাস নিশ্চিত করা গেলে যেমন বন্দরের প্রকৃত সক্ষমতা বাড়বে, তেমনি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হয়ে উঠবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/12044 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 04:21:32 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh