![]()
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। রোববার সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া এই আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আগেই সেখানে পৌঁছেছেন, আর ইরানি প্রতিনিধিরাও আয়োজক শহরে উপস্থিত হয়েছেন।
আলোচনার মূল ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা। ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন এসব বিষয়ে “অগ্রগতি” হবে।
তবে আলোচনার আগেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ।
এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে এবং তাদের বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে হরমুজ রুটে নতুন শুল্ক বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে।
আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। তারা বলছেন, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে অন্য পক্ষকে বাধ্য করতে হবে, না হলে পুরো সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতার-এর প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যুক্ত থাকছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে লেবাননে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে। দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা ও রকেট হামলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই আলোচনা যদি সফল না হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।