• হোম > বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু, মার্কিন গোয়েন্দাদের হুঁশিয়ারি

ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু, মার্কিন গোয়েন্দাদের হুঁশিয়ারি

  • শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১৫:৪২
  • ৬৭

ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু, মার্কিন গোয়েন্দাদের হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরান শান্তি উদ্যোগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অথচ লেবাননে সংঘাত কমানো এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত শান্তি কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ফলে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু যদি এই অভিযান আরও বিস্তৃত করেন, তাহলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকেই দুর্বল করবে না, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার সম্পর্কেও বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু নিজ দেশের ভোটারদের কাছে শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার বা যুদ্ধবিরতিকে ইসরায়েলের একটি অংশ রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছে। ফলে নেতানিয়াহুর ওপর হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার চাপ রয়েছে।

একই সঙ্গে ইসরায়েলের অনেক নীতিনির্ধারক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ফলে তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমে যেতে পারে এবং এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়ানোই বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জনমতও নেতানিয়াহুর অবস্থানকে প্রভাবিত করছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, দেশটির উল্লেখযোগ্য অংশের নাগরিক হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদারের পক্ষে। ফলে যুদ্ধ বন্ধ বা সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং এই সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়োজনে ওয়াশিংটনের হাতে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের বেশ কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে। এর মধ্যে সামরিক সহায়তা সীমিত করা, অস্ত্র সরবরাহ বিলম্বিত করা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান কমিয়ে দেওয়া কিংবা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার মতো পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা খুব সীমিত পরিসরেই ব্যবহার করেছে।

সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর হবে কি না, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11983 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 01:29:24 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh