• হোম > বিদেশ > অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল বলিভিয়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল বলিভিয়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

  • শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১৪:২৫
  • ৬৬

---

অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং দীর্ঘস্থায়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে বলিভিয়াজুড়ে জরুরি অবস্থা (স্টেট অব এক্সেপশন) ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। শনিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ৫০ দিন ধরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক সংগঠন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগসহ অর্থনৈতিক সংকট নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

দীর্ঘদিনের এই অবরোধের ফলে বলিভিয়ার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি এবং চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, “দেশের সড়কগুলো মুক্ত করতে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। জনগণকে অবরোধের কারণে জিম্মি হয়ে থাকতে দেওয়া যায় না।”

তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা।

প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা ও অস্থিরতার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনার সব পথ অনুসরণ করার পর এবং যৌক্তিক দাবিদারদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালানোর পরই সরকার জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মাত্র সাত মাস আগে ক্ষমতায় আসা মধ্যপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। প্রায় দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের মে মাসে জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের সরকারি ভর্তুকি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর থেকেই জনঅসন্তোষ তীব্র হতে শুরু করে। বর্তমানে বলিভিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি হ্রাস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে।

শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে মজুরি বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংলাপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর বলিভিয়ার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা আগামী কয়েক সপ্তাহেই স্পষ্ট হবে। তবে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দ্রুত সমাধান না হলে দেশটি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11974 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 12:33:33 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh