![]()
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা, প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত দলগুলো
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সম্ভাব্য রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং নানামুখী প্রচারণা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও এতে রাজনৈতিক দলগুলোর মর্যাদা ও প্রভাবের বিষয় জড়িয়ে থাকে। ফলে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দল আগে থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ এবং মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে না। অতীতে দলের জন্য অবদান রাখা এবং জনসম্পৃক্ত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে। দলটির অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠপর্যায়ে প্রচারণাও শুরু করেছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যানার, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠিত প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে নতুন দল হলেও স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তারা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হলে আইনগত যোগ্যতা থাকা যে কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের যেসব নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বা যাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে, তারা বাস্তবে কতটা অবাধে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে নির্বাচনকে ঘিরে মামলা, হয়রানি কিংবা প্রশাসনিক চাপের আশঙ্কার বিষয়টিও সামনে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে হলে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে জনআলোচনা। এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচনী পরিবেশ কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখা যায়, সেদিকে।