ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে অবশেষে স্বস্তির একটি বার্তা এলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে। লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, লেবানন যুদ্ধ, ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য এই সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং ইরানের কূটনৈতিক সহায়তায় দুই পক্ষের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনা ও সহিংসতার পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে এসে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে উভয় পক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা বলেন, “আজ দিনের শুরুতেও হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে গোলাগুলি চলছিল। তবে বর্তমানে আমরা বুঝতে পারছি যে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে।”
সংঘাতের মধ্যেও চলছিল হামলা-পাল্টা হামলা
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগ পর্যন্ত লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। শুক্রবারও দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে এবং সংগঠনটির বেশ কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করেছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। একই দিনে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর নতুন আশার আলো
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। তবে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় সেই আশার ওপর অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি সফলভাবে কার্যকর হলে শুধু লেবানন নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জন্য এটি স্বস্তির খবর।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা শান্তির
মাসের পর মাস ধরে চলা হামলা, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাণহানির কারণে লেবাননের হাজারো পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা তাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।
তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, রাজনৈতিক সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগও জরুরি। এখন সবার নজর থাকবে এই যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং দুই পক্ষ কতটা তা মেনে চলে তার ওপর।