• হোম > Following > অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার বিয়ে ঘিরে বচ্চন পরিবারকে এক মাসের মিডিয়া বয়কট, প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার বিয়ে ঘিরে বচ্চন পরিবারকে এক মাসের মিডিয়া বয়কট, প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ২২:২৩
  • ৮২

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বলিউডের ইতিহাসে বহু আলোচিত ঘটনা থাকলেও, ২০০৭ সালে অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের বিয়েকে ঘিরে ঘটে যাওয়া মিডিয়া বয়কট আজও বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। জাঁকজমকপূর্ণ সেই বিয়ের অনুষ্ঠান শুধু তারকাখচিত আয়োজনের জন্য নয়, বরং গণমাধ্যম ও বচ্চন পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া এক নজিরবিহীন দ্বন্দ্বের কারণেও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের অনুষ্ঠান কভার করতে যাওয়া আলোকচিত্রীরা অভিযোগ করেন যে, বচ্চন পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রভাবশালী রাজনীতিক অমর সিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে বলিউডের বহু আলোকচিত্রী সম্মিলিতভাবে বচ্চন পরিবারের ছবি তোলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রবীণ আলোকচিত্রী হর্ষবর্ধন পাঠক এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, এটি ছিল বলিউডের সবচেয়ে বড় বিয়েগুলোর একটি এবং সংবাদমাধ্যমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ফটোসাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ ছিল অপমানজনক।

তার ভাষায়, “আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতাম। ছবি তোলার চেষ্টা করলেই বাধার মুখে পড়তাম। অনেক সময় নিরাপত্তারক্ষীরা আমাদের দিকে পানির পাউচ ছুড়ে মারত। শুধু ছবি তোলাই নয়, আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত অসম্মানজনক।”

তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর আলোকচিত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে, তারা আর বচ্চন পরিবারের কোনো ছবি তুলবেন না।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ছিল ব্যাপক। প্রায় এক মাস ধরে অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন, অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কোনো ছবি তোলা হয়নি। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে উপস্থিত হলেও ফটোগ্রাফাররা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতেন।

আরেক খ্যাতিমান তারকা আলোকচিত্রী বরিন্দর চাওলা জানান, তিনি তার দীর্ঘ পেশাজীবনে এত বড় মিডিয়া বয়কট আগে কখনো দেখেননি।

চাওলার ভাষায়, “অমিতাভজি, জয়াজি, অভিষেক এবং ঐশ্বরিয়া—সবার ওপরই কার্যত নিষেধাজ্ঞা ছিল। তারা কোনো অনুষ্ঠানে গেলে আলোকচিত্রীরা প্রতিবাদ হিসেবে ক্যামেরা নিচে নামিয়ে রাখতেন কিংবা আকাশের দিকে তাক করে রাখতেন। এমনকি গ্রুপ ছবির সময়ও তাদের ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানানো হতো।”

ঘটনার এক পর্যায়ে অমিতাভ বচ্চন নিজেও বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। জানা যায়, ‘চিনি কম’ সিনেমার একটি প্রেস শোতে উপস্থিত হওয়ার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, উপস্থিত আলোকচিত্রীদের কেউ তার ছবি তুলছেন না। পরিবেশের অস্বাভাবিকতা তার নজরে আসে এবং পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত অমিতাভ বচ্চন ব্যক্তিগতভাবে আলোকচিত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর ধীরে ধীরে বচ্চন পরিবার ও মিডিয়ার মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমতে শুরু করে এবং বয়কটের অবসান ঘটে।

তবে এটি অমিতাভ বচ্চনের জীবনে প্রথম মিডিয়া বয়কট ছিল না। তিনি নিজেই এক ব্লগে উল্লেখ করেছিলেন যে, জরুরি অবস্থার সময় গণমাধ্যমের একটি অংশ তাকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করেছিল। এমনকি তার চলচ্চিত্র ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়েও সংবাদ প্রকাশ করা হতো না।

অমিতাভের ভাষায়, “আমি কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ক্যামেরা নামিয়ে রাখা হতো। আমার ছবি তোলা হতো না। অনেক জায়গায় আমার নামও ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হতো।”

বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, বচ্চন পরিবারকে ঘিরে এই মিডিয়া বয়কট শুধু বলিউডের একটি ঘটনা নয়; বরং এটি তারকা ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সংবাদমাধ্যমের সম্মান ও স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

আজও অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার সেই বিয়ে এবং পরবর্তী মিডিয়া বয়কট বলিউড ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও শিক্ষণীয় ঘটনা হিসেবে স্মরণ করা হয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11888 ,   Print Date & Time: Thursday, 8 October 2026, 08:34:30 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh