• হোম > বিদেশ > ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিস্ফোরক দাবি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের: ‘ইসরায়েল ছাড়া আমেরিকার অস্তিত্ব নেই’

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিস্ফোরক দাবি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের: ‘ইসরায়েল ছাড়া আমেরিকার অস্তিত্ব নেই’

  • বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১৯:৫০
  • ৯৮

 ---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। সম্প্রতি এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, “ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না।” তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেরোডিয়াম ন্যাশনাল পার্কে অনুষ্ঠিত ‘জুডিয়া এবং সামারিয়ায় ইসরায়েলি ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে’ বক্তব্য রাখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সম্মেলনে উপস্থিত ইসরায়েলি কর্মকর্তা, গবেষক এবং বসতি স্থাপনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, মূল্যবোধ এবং সভ্যতার শিকড় ইহুদি ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

হাকাবি বলেন, “আমার দায়িত্ব শুধু ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা নয়, বরং আমেরিকার জনগণের কাছে ইসরায়েলের গুরুত্ব তুলে ধরা। ইসরায়েল ছাড়া, ইহুদি ভিত্তি ছাড়া আমেরিকা থাকত না। এই ভূমিতে যা ঘটেছিল, তার কাছেই আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য ঋণী।”

তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীর পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হাকাবির বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক সমর্থনের বার্তা নয়; এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় সম্পর্কের প্রতিফলনও বহন করে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন মন্তব্য

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাষ্ট্রদূত হাকাবির এই বক্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আলোচিত মন্তব্যের ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হলেও, হাকাবির মন্তব্যে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে ইহুদি ঐতিহ্য এবং ইসরায়েলের ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

কেন আলোচনায় ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’?

সম্মেলনে ব্যবহৃত ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ শব্দদ্বয়ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কারণে এই নামে উল্লেখ করে থাকে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ অঞ্চলটিকে ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ বা পশ্চিম তীর হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়।

এ কারণে হাকাবির বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক বিরোধের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প ও হাকাবির পরপর দুটি মন্তব্য বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একদিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে হাকাবি আমেরিকার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তির সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এই বক্তব্যগুলো নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11882 ,   Print Date & Time: Thursday, 8 October 2026, 11:05:50 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh