![]()
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা সরকারকে কাজ করার সময় দিতে চায় না, তারা জনগণের নয়, নিজেদের স্বার্থের কথা বলছে।
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যও সময় দিয়েছে। তাই যারা বিএনপি সরকারকে সময় দিতে চায় না বলে প্রচার চালাচ্ছে, তারা জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
তিনি বলেন, “মানুষ বিএনপিকে দেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছর দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। তাই যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। জনগণকে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।”
একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, অতীতের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন ও জাতীয় সংকটের সময়ে তাদের ভূমিকা জনগণের মনে আছে। তিনি দাবি করেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
নির্বাচনে জনগণের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষ বিএনপিকে বলেছে দেশকে গড়ে তুলতে। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার দায়িত্বও জনগণ আমাদের ওপর দিয়েছে।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকার নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে দেশের আরও ২১ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় তিনি চা-শ্রমিকদের আবাসন সহায়তা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
সরকারবিরোধী সমালোচনার জবাবে তারেক রহমান বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন, এত সামাজিক কর্মসূচির অর্থ কোথা থেকে আসবে। তাদের বলতে চাই, অতীতে যেভাবে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, আগামী দিনের রাজনীতি যেন দেশ ও জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। “দেশ গড়াই হবে আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি”— বলেন তিনি।
সরকার গঠনের পর ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ সহায়তা, ধর্মীয় নেতাদের ভাতা, শিক্ষার্থীদের পোশাক বিতরণ এবং ক্রীড়া কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচির সুফল দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ পাবে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউস, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে সড়কপথে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।