![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের মহিমা ছড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক Lionel Messi। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় উপহার দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি Miroslav Klose-এর রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন মেসি।
তবে রেকর্ড, হ্যাটট্রিক এবং জয় উদযাপনের মাঝেই জন্ম নিয়েছে নতুন এক বিতর্ক। ম্যাচের একটি ঘটনায় লাল কার্ড না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ফুটবল সমর্থকের দাবি, একই ঘটনা অন্য কোনো খেলোয়াড় ঘটালে হয়তো তাকে মাঠ ছাড়তে হতো।
কানসাস সিটির স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমদিকে মেসির একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও ১৭তম মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে তিনি দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা।
তবে প্রথমার্ধে একটি ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির পায়ের পেছনে মেসির বুটের স্টাড লাগলে তিনি ব্যথায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাটি ভিএআর পর্যালোচনা করলেও রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি। ফলে খেলা চালিয়ে যেতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, ঘটনাটি লাল কার্ডের মতো গুরুতর ফাউল ছিল। তাদের প্রশ্ন, ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের ক্ষেত্রে কি কখনও কখনও আলাদা মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়?
একাধিক ফুটবল বিশ্লেষকও বিষয়টি নিয়ে মত দিয়েছেন। কেউ কেউ ঘটনাটিকে ‘লাল কার্ডযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, খেলোয়াড়ের পরিচয় নয়, মাঠের ঘটনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
তবে অন্য একটি অংশের মত ভিন্ন। তাদের দাবি, ঘটনাটি ছিল অনিচ্ছাকৃত এবং বলের দখল নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ। তাই রেফারির সিদ্ধান্তকে তারা যৌক্তিক বলেই মনে করছেন।
এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে আরেকটি বিষয়—ফুটবলের বাণিজ্যিক বাস্তবতা। অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বকাপের মতো আসরে মেসির মতো তারকার উপস্থিতি দর্শক আগ্রহ, সম্প্রচার মূল্য এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ফলে বড় তারকাদের ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই বেশি আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে বিতর্কের বাইরে একটি বিষয় স্পষ্ট—৩৮ বছর বয়সেও মেসি নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক, রেকর্ড স্পর্শ এবং দলকে জয় উপহার দিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ পরবর্তী ম্যাচের দিকে। কারণ আর মাত্র একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসতে পারেন মেসি। আর সেই সম্ভাবনাই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।