![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কৃষকবান্ধব করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃষিতে Artificial Intelligence (AI), Internet of Things (IoT), Sensor Technology এবং Drone ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার Smart Agriculture এবং Precision Agriculture-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা-সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘I Have A Plan’ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একাধিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কৃষকদের উৎপাদিত ধান ও গম সরাসরি সংগ্রহের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘কৃষকবাজার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমিয়ে কৃষককে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে সেচ সুবিধা এবং সহজ শর্তে কৃষিযন্ত্র পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
এছাড়া কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার সুলভ মূল্যে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI, IoT ও Drone প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এতে মাঠ পর্যায়ে ফসলের রোগ শনাক্তকরণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন পূর্বাভাস এবং কৃষি তথ্য বিশ্লেষণ আরও সহজ ও কার্যকর হবে। ফলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।