![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে এখনও চূড়ান্ত নয় বলে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী না এগোলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।
বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বর্তমানে একটি স্মারক বা প্রাথমিক চুক্তি মাত্র। তিনি দাবি করেন, যদি ইরান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আচরণ না করে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান না নেয়, তাহলে নতুন করে বোমাবর্ষণের পথও খোলা থাকবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের পর বিশ্ব সম্প্রদায় যখন স্থায়ী শান্তির আশায় তাকিয়ে আছে, তখন এমন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। নেতারা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানই অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাই জি-৭ দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে নতুন আলোচনার পথ তৈরি করতে পারে। তবে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সমাধান সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে দেশটির লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর সেই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী ধাপের দিকে। কারণ যুদ্ধ নয়, স্থায়ী শান্তিই এখন কোটি মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।