![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলে কিংবদন্তিদের তালিকা তৈরি হলে সেখানে সবার প্রথম সারিতেই থাকবে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নাম। বয়স ৪১ ছুঁইছুঁই হলেও তার স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং জয়ের ক্ষুধা যেন এখনো একজন তরুণ ফুটবলারের মতোই তীব্র। আর সেই কারণেই পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ তাকে ফুটবলের অনন্য উদাহরণ ও আদর্শ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পর্তুগাল যখন নতুন স্বপ্ন বুনছে, তখন দলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার নাম ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিরল কীর্তি। তবে কোচ মার্তিনেজের মতে, রোনালদোর প্রস্তুতি, আবেগ এবং জয়ের আকাঙ্ক্ষা দেখে মনে হচ্ছে তিনি যেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন।
বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ বলেন, “রোনালদো ফুটবলের জন্য একটি অনন্য উদাহরণ। পৃথিবীর অসংখ্য শিশু তার খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হয় এবং তার পথ অনুসরণ করতে চায়। এটি ফুটবলের জন্যও একটি বড় অর্জন।”
বর্তমান পর্তুগাল দলকে অনেকেই ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড হিসেবে বিবেচনা করছেন। দলে রয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াস, ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসের মতো বিশ্বমানের তারকারা। ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে পর্তুগিজ সমর্থকরা।
তবে রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের মালিক হলেও বড় টুর্নামেন্টে তার সাম্প্রতিক গোলখরা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণের সময় তার রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
তবে এসব সমালোচনায় মোটেও বিচলিত নন কোচ মার্তিনেজ। তার মতে, রোনালদোর উপস্থিতিই পর্তুগালের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তোলে।
তিনি বলেন, “রোনালদো আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে একজন অসাধারণ ফিনিশার এবং পেনাল্টি বক্সের ভেতরে তার উপস্থিতি সবসময় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। তার মুভমেন্ট অন্য খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা তৈরি করে দেয়। আমাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলে তার অবদান পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে।”
২০০৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে যখন মাত্র ১৯ বছর বয়সে পর্তুগালকে ফাইনালে তুলেছিলেন রোনালদো, তখন বর্তমান সতীর্থদের অনেকেই ছিলেন কিশোর। সেই সময় তার খেলা দেখে বড় হয়েছেন বর্তমান দলের অন্যতম তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেসও।
রোনালদো সম্পর্কে ব্রুনো বলেন, “আমরা সবাই তার খেলা দেখে বড় হয়েছি। এখন জাতীয় দলে তার পাশে খেলতে পারা আমাদের জন্য গর্বের এবং সম্মানের বিষয়।”
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে পর্তুগাল। আর সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় প্রতীক এখনও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বয়স হয়তো বেড়েছে, কিন্তু তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং জয়ের মানসিকতা এখনো কোটি ভক্তের বিশ্বাসের জায়গা।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।