ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেছিল জর্ডান। পুরো দেশের কোটি মানুষের স্বপ্ন, আবেগ আর অপেক্ষার প্রতিফলন ছিল এই ম্যাচে। তবে বিশ্বকাপের অভিষেক স্মরণীয় হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। গ্রুপ-জে’র প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রিয়ার কাছে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়েছে জর্ডান।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব ও কাতারের পর মাঠে নামে জর্ডান। এশিয়ার অন্য দলগুলো যেখানে অন্তত হার এড়াতে সক্ষম হয়েছিল, সেখানে প্রথম ম্যাচেই পরাজয়ের স্বাদ নিতে হলো জর্ডানকে।
অন্যদিকে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে দারুণ সূচনা করেছে অস্ট্রিয়া। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইউরোপের দেশটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে জায়গা করে নেয়। আর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে তারা।
সান ফ্রান্সিসকোর কাছাকাছি অবস্থিত লেভাইস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে অস্ট্রিয়া। ম্যাচের ২০ মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোমানো শিমিড। তার চমৎকার ফিনিশিংয়ে প্রথমার্ধেই লিড পায় ইউরোপিয়ান দলটি।
তবে পিছিয়ে পড়েও লড়াই চালিয়ে যায় জর্ডান। বিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে নেমে আক্রমণের ধার বাড়ায় তারা। এরই ফল মেলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। আলি ওলওয়ানের শক্তিশালী হেডে সমতায় ফেরে জর্ডান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল দেশটির প্রথম গোল, যা নিঃসন্দেহে জর্ডানের ফুটবল ইতিহাসে এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
গোলের পর জর্ডানের সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। মনে হচ্ছিল, অভিষেক ম্যাচেই হয়তো ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে দলটি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
ম্যাচের ৭৬ মিনিটে দুর্ভাগ্যের শিকার হয় জর্ডান। নিজেদের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরবের আত্মঘাতী গোলে আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই গোল জর্ডানের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেয়।
এরপর সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি জর্ডান। যোগ করা সময়ের ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে অস্ট্রিয়ার জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মার্কো অরনাটোভিচ। ওয়েস্ট হ্যামের সাবেক এই ৩৭ বছর বয়সী তারকা চাপের মুহূর্তে নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেন।
ম্যাচ শেষে পরাজয়ের হতাশা থাকলেও জর্ডানের জন্য ইতিবাচক দিক হলো বিশ্বকাপে তাদের প্রথম গোলের ইতিহাস। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ম্যাচে হারলেও দলটির লড়াকু মানসিকতা এবং দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ জাগায়।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বরং দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আত্মবিশ্বাসের বড় ভিত্তি। গ্রুপ-জে’তে পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে এই জয় তাদের মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে জর্ডানের যাত্রা এখনও শেষ হয়নি। ইতিহাসের প্রথম গোলের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। আর অস্ট্রিয়া চাইবে এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে।