![]()
প্রতিশোধের রাজনীতি ও মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গঠনে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের অন্যায়-নির্যাতনের প্রতিশোধ নয়, বরং একটি উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই এখন সবার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার কোমরের একটি হাড় এখনও বাকা, যা আমাকে আজও ভোগায়। কিন্তু প্রতিশোধ নিলেই কি সেটি ঠিক হয়ে যাবে? হবে না। তাই প্রতিশোধ নয়, দেশ গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’
তিনি বলেন, অতীতে তার ও দলের নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায় হয়েছে, অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু প্রতিশোধ সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। বরং দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কী করা যায়, সেটিই এখন ভাবার সময়।
সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুল হলে তা অবশ্যই তুলে ধরতে হবে। তবে দায়িত্বশীল সমালোচনা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উপস্থাপন সবার জন্যই ক্ষতিকর।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠনের আগে যেমন দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এখনও তেমনি দলীয় ও আইনি—দুই পর্যায়েই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ও সহযোগিতার কারণে দলের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সভায় দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তরুণদের বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনাকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগাতে হলে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছে, যেখানে সারা দেশের লাখো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, তরুণদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। সামাজিক অবক্ষয় ও সহিংস প্রবণতা রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ সময় তিনি অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচি নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।