• হোম > বাংলাদেশ > বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম (মোহাম্মদ সাইফুল আলম)-কে ঘিরে বিভিন্ন দেশে আইনি ও আর্থিক তদন্তের চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম (মোহাম্মদ সাইফুল আলম)-কে ঘিরে বিভিন্ন দেশে আইনি ও আর্থিক তদন্তের চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২২:০৬
  • ৬৭

 

 ---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

এস আলমের আন্তর্জাতিক সম্পদ নিয়ে তদন্ত জোরদার, মালয়েশিয়ার বিলাসবহুল হোটেলেও বাড়ছে নজর

বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম)-কে ঘিরে আন্তর্জাতিক তদন্ত ও আইনি চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ, সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, জার্সি এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে তার ব্যবসায়িক সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান চলছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এস আলমকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো সাইপ্রাসে তার ও তার স্ত্রীর নামে থাকা একটি বিলাসবহুল আবাসিক সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে জব্দ হওয়া। একই সময়ে বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার হয়েছে। একটি আদালত তাকে অনুপস্থিতিতে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সিঙ্গাপুরে এস আলমের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরেই তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে।

মালয়েশিয়ার দুই বিলাসবহুল হোটেল ঘিরে নতুন আলোচনা

বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত দুটি পাঁচতারকা হোটেলকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হোটেল দুটি হলো রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার।

প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকানা রয়েছে ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডির হাতে, যা বিভিন্ন ব্যবসায়িক নথি অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার অন্যতম বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান আইজিবি কর্প বিএইচডি থেকে প্রায় ৭৬৫ মিলিয়ন রিঙ্গিতের বিনিময়ে এই সম্পদ অধিগ্রহণ করা হয়।

২০২০ সালে ব্যাপক সংস্কারের জন্য হোটেলটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে এটি ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালের প্রথম দ্বৈত ব্র্যান্ডের হোটেল কমপ্লেক্স হিসেবে পুনরায় চালু হয়। বর্তমানে এর একটি অংশ রেনেসাঁ এবং অন্য অংশ ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন নামে পরিচালিত হচ্ছে।

এখনো কোনো জব্দাদেশ নয়

তবে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের জব্দাদেশ বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তবুও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান তদন্তের কারণে ভবিষ্যতে এসব সম্পদও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর ঘিরে বাড়ছে গুরুত্ব

এস আলম-সংশ্লিষ্ট সম্পদ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ ও ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা সহযোগিতা এবং অভিবাসন বিষয়ক বিভিন্ন ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রত্যাশা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে অতীতে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং চাকরির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে মালয়েশিয়া শ্রমিক প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। ফলে প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিদেশে এস আলমের সম্পদ নিয়ে তদন্ত, অন্যদিকে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজার সহযোগিতা—দুই বিষয়ই আগামী কয়েক সপ্তাহে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11747 ,   Print Date & Time: Thursday, 17 September 2026, 06:26:53 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh