![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বেনজীর আহমদকে দেশে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুদকের নথি
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রয়োজনীয় নথিপত্র জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথি, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে এসব নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে এনসিবি ও দুদকের কর্মকর্তারা যৌথভাবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছেন। এর মধ্যে আদালতের আদেশ, এফআইআর, তদন্ত প্রতিবেদন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমিরাতের আইন অনুযায়ী এসব নথির ইংরেজি ও আরবি অনুবাদও প্রস্তুত করা হয়েছে।
গত রোববার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউএইর আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হবে।
বর্তমানে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, অর্থপাচার, প্রতারণা এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে বেনজীর আহমদ ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র্যাবের মহাপরিচালক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম কর্মকর্তা। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি অবসরে যান।