![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা, ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নোয়াখালীতে আকস্মিক সফরে গিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি নানা অসঙ্গতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পান। পরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পর হাসপাতালের বাইরে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে মন্ত্রীকে সেখান থেকে নিরাপত্তার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পরে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ১৭ বছরের নিয়োগ পাওয়া কিছু লোকজন এবং তাদের দালালচক্র হাসপাতালকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছে। রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। তাই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ হাসপাতালে এসে যে চিত্র দেখেছি, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। এমন অব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি সরকারি হাসপাতাল পরিচালিত হতে পারে না। আমরা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যখাতের সব অনিয়ম দূর করব এবং জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করব।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নোয়াখালীর বর্তমান সিভিল সার্জনকে আপাতত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্থবিরতা তৈরি না হয়।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে এবং জনগণকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুন অর রশিদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।