![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, তবু দেশে জ্বালানির মূল্য কমার সম্ভাবনা নেই এখনই
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করলেও বাংলাদেশের ভোক্তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তির কোনো ইঙ্গিত নেই। সরকার বলছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি বহন করার কারণে এখনই দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইতিবাচক সংকেত পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে। গত মে মাসে যখন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি চরম উত্তেজনায় পৌঁছায়, তখন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে উঠে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই দাম নেমে এসেছে প্রায় ৮৩ ডলারে।
যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে এই দরপতনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা, তবু সরকারের দৃষ্টিতে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখনও অনেক বেশি রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিজেল বিক্রিতে সরকারকে প্রতি লিটারে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাস সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম কমানোর বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে কৃষি, পরিবহন এবং শিল্প খাত সচল রাখতে ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেলেও তার সুফল সবসময় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। কারণ জ্বালানি মূল্য হ্রাস পেলেও পরিবহন ভাড়া, পণ্য পরিবহন ব্যয় কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত থাকে।
এদিকে সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে মূল্য আরও স্থিতিশীল হলে এবং ভর্তুকির চাপ কমে এলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শুধু মূল্য সমন্বয় নয়, বরং বিকল্প জ্বালানি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।