![]()
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। তবে ইসরায়েলের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৯৭৯ সালের Iranian Revolution-এর পর থেকেই ইরানকে নিজেদের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে ইসরায়েল। সেই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাবকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সমালোচকদের মতে, নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে ওয়াশিংটনে ইরানবিরোধী অবস্থান জোরালো করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের দাবি, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যেখানে ইরানকে মোকাবিলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান গ্রহণকে অনেকের কাছে অপরিহার্য বলে মনে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নীতিতেও তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতায় অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন বা তথাকথিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটানো সম্ভব হয়নি। বরং সংঘাতের পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো টিকে রয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্কও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ফলে যুদ্ধের মাধ্যমে যে কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই বাস্তবায়িত হয়নি বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন-ইরান সমঝোতা বা সম্ভাব্য চুক্তিকে ইসরায়েলের কিছু নীতিনির্ধারক সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের আশঙ্কা, এমন কোনো সমঝোতা ইরানকে পুনরায় অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামরিক সংঘাত, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য—সবকিছুই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যুদ্ধ শেষ হলেও এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।