![]()
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক সমঝোতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, প্রাথমিক চুক্তিটি ‘খুব শিগগিরই’, এমনকি শুক্রবারের আগেই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, চুক্তিটি মূলত প্রায় দেড় পৃষ্ঠার একটি সাধারণ সমঝোতা স্মারক (MoU), যেখানে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাঠামোর ভিত্তিতে ইরান যদি শর্ত পূরণ করে, তবে তারা ধাপে ধাপে এর সুফল পাবে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চুক্তির আওতায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে অর্থায়ন বন্ধ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার বিষয়ে যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তাদের মতে, শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের দিনই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি, জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে সই করেছেন। তবে পুরো চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকা এবং ১৪–১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে ইরান। ইরানি পক্ষ এটিকে ‘উত্তেজনা প্রশমনের প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একে তাদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।
চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু দেশ স্বাগত জানালেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যেকোনো অবস্থায় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নয়, বরং একটি প্রাথমিক কাঠামো—যার বাস্তব কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরবর্তী কারিগরি আলোচনা ও দুই পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর।