![]()
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্টে নামলেও প্রথম ম্যাচেই অপ্রত্যাশিত হোঁচট খেয়েছে Spain national football team। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া Cape Verde national football team-এর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে দুই পয়েন্ট হারিয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে বলের দখল, পাস এবং আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য থাকলেও সেই শ্রেষ্ঠত্বকে গোলের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারেনি স্পেন।
শুরু থেকেই কেপ ভার্দের অর্ধে খেলা পরিচালনা করেছে স্পেন। একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও শেষ মুহূর্তে এসে থেমে গেছে তাদের প্রচেষ্টা। ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিং ছিল হতাশাজনক, আর তৈরি হওয়া সুযোগগুলোর সদ্ব্যবহার করতে ব্যর্থ হওয়ায় গোলশূন্যই থাকতে হয়েছে স্প্যানিশদের।
স্পেনের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল কেপ ভার্দের অসাধারণ রক্ষণাত্মক সংগঠন। আফ্রিকার দেশটির খেলোয়াড়রা নিজেদের অর্ধে জায়গা সংকুচিত করে রেখে স্পেনকে বক্সের ভেতরে কার্যকরভাবে ঢুকতে দেয়নি। সুশৃঙ্খল ডিফেন্স, দৃঢ় ট্যাকল এবং নিবিড় মার্কিংয়ের কারণে স্পেনের আক্রমণভাগ কখনোই স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি।
রক্ষণভাগের পাশাপাশি কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক Vozinha। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন। তার দুর্দান্ত রিফ্লেক্স এবং আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিং স্পেনের ফুটবলারদের বারবার হতাশ করেছে। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দাবিদারও ছিলেন তিনি।
স্পেন কোচ Luis de la Fuente-এর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় Lamine Yamal-কে শুরুর একাদশে না রাখা স্বাভাবিক মনে হলেও, ফর্মে থাকা Nico Williams-কে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত অনেককে বিস্মিত করেছে। প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো কৌশলগত পরিবর্তন আনেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৭০ মিনিটে ইয়ামাল ও Mikel Merino-কে মাঠে নামাতে বাধ্য হন।
তবে শেষ ২০ মিনিটে নতুন শক্তি যোগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি স্পেন। ততক্ষণে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। ইয়ামালের গতি ও মেরিনোর উপস্থিতিও প্রতিপক্ষের জমাট ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি।
শুধু রক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকেনি কেপ ভার্দে। সুযোগ পেলেই তারা পাল্টা আক্রমণে উঠে স্পেনের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রেখেছে। যদিও বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, তবু ম্যাচজুড়ে স্পেনকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে দেয়নি।
সব মিলিয়ে এটি স্পেনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বলের দখল ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও, শক্ত রক্ষণভাগ ও কার্যকর গোলকিপিংয়ের সামনে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মূল্য দিতে হয়। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র তাই শুধু দুই পয়েন্ট হারানোর হতাশাই নয়, বরং টুর্নামেন্টের বাকি পথের জন্য স্পেনের সামনে বাস্তবতার একটি কঠিন বার্তাও।