![]()
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায় এবং প্রদত্ত অর্থ পরিবারের নারীদের হাতেই থাকে, সে বিষয়ে সরকার কঠোর নজরদারি করবে।
আজ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির কার্যক্রম তদারকিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ থাকলেও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে এমন কোনো সুযোগ রাখা হবে না। সরকারি কর্মকর্তারাই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। উপকারভোগীদের দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কর্মসূচিটির বাস্তব প্রভাবও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। সরকারের এত বড় ব্যয়ের একটি কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছে, সে জন্য মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং সেই ভিত্তির ওপর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বিশেষ পরিস্থিতিতে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো পরিবারের নারী সদস্য মারা গেলে এবং পরিবারের দায়িত্ব যদি একজন পিতা একাই বহন করেন, তাহলে এমন বিষয়গুলো ভবিষ্যতে নীতিমালায় বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হবে। এসব কার্ডধারী কৃষক স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, অর্থসচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।