![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত, জুনের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এলো ১৫৪ কোটি ডলার
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে অব্যাহত রয়েছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী ধারা। চলতি জুন মাসের প্রথম ১৪ দিনেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৫৪ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়া এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, জুন মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১১৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, যা থেকে স্পষ্ট যে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণ রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রেমিট্যান্সের গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে প্রবাসী আয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানও রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে। মে মাসে দেশে এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স। এর আগে মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করবে।