![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়ন নিয়ে সংসদে বিতর্ক, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নাকচ করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় দুটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামে নতুন দুটি ইউনিয়ন গঠনের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, ইউনিয়নগুলোর নাম স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এটি স্বজনপ্রীতির একটি উদাহরণ হতে পারে।
সোমবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি দাবি করেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে যে নতুন ইউনিয়নগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোর নামকরণে ব্যক্তিগত প্রভাব থাকতে পারে।
জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ভেঙে সম্প্রতি মোকামতলা নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এই উপজেলার অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করে ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’, ‘স্বর্ণগ্রাম’ ও ‘মীরবাড়ি’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এর মধ্যে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম দুটি প্রতিমন্ত্রীর দুই সন্তানের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় জনমনে আলোচনা শুরু হয়।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণে ব্যক্তিপূজা ও পারিবারিক প্রভাবের বিরোধিতা করেছেন। সেখানে নতুন ইউনিয়নের নাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তিনি বিষয়টির স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্পষ্টভাবে দাবি করেন, ইউনিয়নের নামকরণে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা নেই। তিনি বলেন, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই, গণশুনানি এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসন নামগুলো নির্ধারণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, সীমান্ত ইউনিয়নটি দুটি উপজেলার সীমানা সংলগ্ন হওয়ায় এর নাম ‘সীমান্ত’ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে দিগন্ত ইউনিয়নটি ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত ও দূরবর্তী এলাকায় হওয়ায় ‘দিগন্ত’ নামটি প্রস্তাব করা হয়। তিনি বলেন, “আমার সন্তানদের নামের আগে ‘মীর’ রয়েছে। যদি ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে ইউনিয়নের নাম ‘মীর সীমান্ত’ বা ‘মীর দিগন্ত’ রাখা হতো।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সীমান্ত ও দিগন্ত নামে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, ভবন, ট্রেন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রয়েছে। শুধুমাত্র নামের মিল থাকলেই সেটিকে স্বজনপ্রীতির প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নতুন ইউনিয়ন গঠন এবং নামকরণের বিষয়টি সবসময়ই সংবেদনশীল। ফলে ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক এড়াতে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। বর্তমানে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গন এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।