• হোম > বাণিজ্য > বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা জারি: বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে কেনা যাবে বাংলাদেশি পণ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা জারি: বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে কেনা যাবে বাংলাদেশি পণ্য

  • সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১৮:৫০
  • ৭৩

---
ই-বাংলাদেশ

বৈশ্বিক ই-কমার্স বাজারে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সরাসরি বাংলাদেশি পণ্য পৌঁছানোর পথ সুগম করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে দেশের রপ্তানিকারকরা বিশ্বখ্যাত অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারবেন।

বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (বি২সি) মডেলের এই খুচরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংককে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন এই নির্দেশনার ফলে ১ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অগ্রিম মূল্য পাওয়া চালানের ক্ষেত্রে প্রচলিত ‘ইএক্সপি’ বা রপ্তানি ফরম পূরণের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। একই সঙ্গে এই অগ্রিম প্রাপ্তির বিপরীতে কোনো ‘এআরভি’ প্রক্রিয়ারও প্রয়োজন হবে না। তবে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষুদ্র মূল্যের এই রপ্তানিগুলো অবশ্যই কস্ট অ্যান্ড ফ্রেট (সিএফআর) শর্তে সম্পন্ন হতে হবে। রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করার এই উদ্যোগ দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের বড় সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

নতুন নিয়মানুযায়ী, বিশ্বখ্যাত অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর সাথে রপ্তানিকারকদের বৈধ চুক্তি থাকতে হবে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো যাচাই করবে। পণ্য পাঠানোর পর ক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেল বা বৈধ ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে আনতে হবে। এডি ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয় পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে তা উদ্যোক্তাদের হিসাবে জমা করবে। পণ্যের মান নিয়ে কোনো আপত্তি উঠলে বা ক্রেতা পণ্য ফেরত দিলে, ইআরকিউ (রপ্তানিকারকের বৈদেশিক মুদ্রা ধারণের হিসাব) বা রপ্তানিকারকের নিজস্ব টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তা রিফান্ড করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য প্রসারে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন বা মেম্বারশিপ ফি বাবদ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পাঠানোর সুযোগ পাওয়ায় উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকা সহজ হবে। তবে জালিয়াতি ও অর্থ পাচার রোধে ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি লেনদেনের অডিট ট্রেইল সংরক্ষণ এবং কঠোর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের রপ্তানি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11652 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 09:22:13 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh