• হোম > বাংলাদেশ > পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: অবহেলিত মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: অবহেলিত মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী

  • সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১৬:৩৬
  • ১০১

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: অবহেলিত মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীকেন্দ্রিক ড্রয়িংরুমের বৃত্তে বন্দি ছিল। এতে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনপদের মানুষ সবসময় অবহেলিত থেকেছে। সাধারণত পাঁচ বছর পর পর ভোটের সময় ছাড়া কেউ তাদের খোঁজ নেয় না। অথচ এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষগুলোই কঠোর পরিশ্রমে ফসল ফলায়। তারা দেশকে বাঁচিয়ে রাখে এবং আমাদের জীবনকে সুন্দর করে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে খুব কম নেতাই তাদের দুঃখ-কষ্ট শুনতে সরাসরি মাঠপর্যায়ে গেছেন। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই অবহেলিত মানুষের মুখে এখন হাসি ফুটতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তারা প্রকৃত আপনজন হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন। তিনি ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসেবে শহীদ জিয়ার গ্রামীণ রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে নেমেছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবদান ছিল অপরিসীম। মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের আশায় তারা জীবন বাজি রেখেছিলেন। তবে স্বাধীনতার পর তাদের প্রথম আশার আলো দেখান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি রাজধানীকেন্দ্রিক ড্রয়িংরুম রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে ফেলেছিলেন। তিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে বেড়াতেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে তিনি সরাসরি প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন, বাংলাদেশের আসল শক্তি গ্রামে নিহিত রয়েছে। তাই তিনি রাজনীতিকে শহর থেকে গ্রামে নিয়ে যান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনামলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তিনি ‘নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার’ ও ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন। কোদাল হাতে পাতলী খাল খননের মতো কর্মসূচি তিনি শুরু করেন। দেশব্যাপী এই খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটেছিল। তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করেছিলেন। একই সাথে ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে প্রান্তিক মানুষ তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারায়। ফলে তারা আবার অবহেলার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।

তারেক রহমান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তৃণমূলের ক্ষমতায়নে কাজ করে চলেছেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পিতার মতই তিনি প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করার অনেক আগে থেকেই তিনি তৃণমূলের জন্য কাজ শুরু করেন। মূলত ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘তৃণমূল সম্মেলন’ আয়োজন করেন। এর মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে এক অভিনব ধারার সূচনা করেন। তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের রাজনীতি ছেড়ে কৃষকের আঙিনায় গেছেন। তিনি সবসময় স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দূর দেশে অবস্থান করেও তারেক রহমান দলের হাল ধরেন। তিনি আধুনিক প্রযুক্তি তথা স্কাইপ ও জুমের মাধ্যমে দল পরিচালনা করেন। তিনি বড় বড় নেতাদের চেয়ে মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। বিগত ১৭ বছরের সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের মুখেও বিএনপি আজ অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এর মূল ভিত্তি ছিল তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক দূরদর্শী রাজনীতি।

বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন অবহেলিত জনপদে। তিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও চষে বেড়াচ্ছেন। সবখানের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা তিনি নিজে শুনছেন। একই সাথে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন , গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ। তাঁর মতে, প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নই সামগ্রিক দেশের প্রকৃত উন্নয়ন। সাড়ে চার দশক পর তৃণমূলের মানুষ আবার তাদের এক পরম সুহৃদকে ফিরে পেয়েছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতি ও উন্নয়নে এক নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11640 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 02:15:34 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh