![]()
এনবিআর কর ফাঁকি রোধে নতুন এক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে আয়কর রিটার্নে উত্তরাধিকার সূত্রে বা উপহার হিসেবে পাওয়া সম্পদের আর্থিক মূল্য আর “মূল্য অজানা” হিসেবে দেখানো যাবে না। আগামী অর্থবছর থেকে এসব সম্পদের নির্দিষ্ট মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হবে।
এনবিআর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ধনী করদাতারা জমি, ফ্ল্যাট বা স্বর্ণসহ বড় অঙ্কের সম্পদ পেয়েও তা “অজানা মূল্য” হিসেবে দেখিয়ে আসছিলেন। এতে প্রকৃত সম্পদের বিপরীতে সরকার সারচার্জ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই ফাঁক বন্ধ হবে এবং বহু নতুন করদাতা সারচার্জের আওতায় আসবেন।
বর্তমানে দেশে ৪ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে সারচার্জ দিতে হয়, যার হার ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত। এনবিআর ধারণা করছে, নতুন ভ্যালুয়েশন পদ্ধতিতে আরও কয়েক হাজার করদাতা এই সীমার মধ্যে চলে আসবেন এবং সারচার্জ আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
নতুন ব্যবস্থায় সম্পদের মূল্য নির্ধারণ সহজ করতে ভূমি অফিসের মৌজা মূল্যসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেস যুক্ত করা হবে আয়কর অনলাইন সিস্টেমে। ফলে জমি, ফ্ল্যাট বা স্বর্ণের ক্ষেত্রে আর “মূল্য অজানা” দেখানোর সুযোগ থাকবে না।
কর বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি শুধু রাজস্ব বাড়াবে না, বরং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতাও আনবে। তবে কেউ কেউ সারচার্জের হার পুনর্বিবেচনারও পরামর্শ দিয়েছেন।
এনবিআরের হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার করদাতা সারচার্জ দেন, যা থেকে বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা আসে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে ২০২৭–২৮ অর্থবছর থেকে অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসতে পারে।