![]()
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে বড় অঙ্কের তারল্য সহায়তা পেয়েছে। ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, সর্বশেষ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আরও ২,৫০০ কোটি টাকা সহায়তা পাওয়া গেছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগের দিনও একই পরিমাণ—২,৫০০ কোটি টাকা—তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, যা এখনও পুরোপুরি ব্যবহার করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সহায়তা ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে।
আলতাফ হোসেন দাবি করেন, গ্রাহকদের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। তার মতে, ব্যাংকের কিছু শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, হিসাব বন্ধের হার আগের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে এসেছে, যা আস্থা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব গ্রাহক সম্প্রতি তাদের আমানত তুলে নিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে আবারও ব্যাংকে ফিরে আসবেন বলে তারা আশা করছেন।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। চেয়ারম্যানসহ পর্ষদের সব সদস্যকে সরিয়ে দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়, যখন ব্যাংকটি গ্রাহক উত্তোলন চাপ ও আস্থাহীনতার কারণে তারল্য সংকটে পড়ছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি এখন শুধু একটি তারল্য সংকট মোকাবিলার বিষয় নয়—বরং গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ব্যাংকটি।