![]()
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ‘গ্রাহক ফোরাম’। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পূর্ববর্তী কাঠামো ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এস. আলম গ্রুপের দখলের আগের সময়ের মতো অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়েই নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা উচিত।
রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সোমবার এ দাবি জানান সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরনবী মানিক। তিনি বলেন, নতুন পর্ষদ গঠনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে না রেখে সৎ, দক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে গ্রাহক ফোরাম বলছে, পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হলেও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ আবারও একক কর্তৃত্বের দিকে যাচ্ছে, যা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিচালনা কাঠামো অপরিহার্য।
নুরনবী মানিক অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে এস. আলম গ্রুপের সময় ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় পরিবর্তনের পর থেকে নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণের নামে বের করে নেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—পূর্ণাঙ্গ নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন, জোরপূর্বক নেওয়া শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার।
সংগঠনটির দাবি, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি কোটি গ্রাহকের আস্থা ও আমানতের সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাই দ্রুত দৃশ্যমান সংস্কার ও আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। তাদের হুঁশিয়ারি, কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন গ্রাহকেরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালককে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
এর আগে চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং নতুন নিয়োগ ঘিরে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গ্রাহক ও কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দেয়, যার প্রভাবে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের চাপও বাড়ে বলে জানা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংককে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি এখন শুধু একটি পরিচালনাগত পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়—বরং আস্থা, সুশাসন ও ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের নীতিগত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।