![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পায়নি ব্রাজিল। শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের। তবে হতাশার মাঝেও ব্রাজিল শিবিরে সবচেয়ে বড় স্বস্তির নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মরক্কো। আফ্রিকার শক্তিশালী দলটি দ্রুত গোল করে ব্রাজিলকে চাপে ফেলে দেয়। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর অনেকটাই অগোছালো দেখা যায় ব্রাজিলকে। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং রক্ষণে ভুলের কারণে বারবার বিপদের মুখে পড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
তবে বড় ম্যাচের বড় তারকা হয়ে সামনে আসেন ভিনিসিয়ুস। প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ দক্ষতায় গোল করে তিনি ম্যাচে সমতা ফেরান। তার এই গোলই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেয়। পুরো ম্যাচজুড়েই গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ডগলাস সান্তোস ভিনিসিয়ুসের প্রশংসা করে বলেন, তিনি একজন অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার, যাকে থামানো যেকোনো দলের জন্যই কঠিন। তার মতে, ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভিনিসিয়ুস জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচসেরা হওয়ার পরও তিনি বলেন, নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এবং সামনে আরও উন্নতি করতে চান। তার বিশ্বাস, ব্রাজিল দল হিসেবে আরও ভালো খেলতে সক্ষম এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সেই উন্নতির প্রতিফলন দেখা যাবে।
এদিকে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিও ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ছিলেন এই ফরোয়ার্ড এবং বিশ্বকাপজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সামর্থ্য তার রয়েছে।
ম্যাচসেরা পুরস্কার গ্রহণের সময় ভিনিসিয়ুসের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো। এই মুহূর্তটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিল প্রত্যাশিত ফুটবল খেলতে না পারলেও মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকে ড্র করা ইতিবাচক দিক। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের চাপ সামলে ফিরে আসা ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
এখন ব্রাজিলের সামনে অপেক্ষা করছে গ্রুপপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। পরবর্তী লড়াইয়ে হাইতির মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। সেই ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যেতে চাইবে তারা। অন্যদিকে, মরক্কোও প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে প্রমাণ করেছে যে তারা এবারও বিশ্বকাপের অন্যতম চমক হয়ে উঠতে পারে।