![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত কখনো পুরোনো হয় না। ২০১৪ সালের ব্রাজিল-জার্মানি সেমিফাইনাল ঠিক তেমনই একটি ঘটনা। ব্রাজিলের মাটিতে স্বাগতিকদের ৭-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল জার্মানি। সেই ম্যাচ ফুটবল বিশ্বে ‘সেভেন আপ’ নামে পরিচিত হয়ে যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে কুরাসাওকে একই ব্যবধানে হারিয়ে আবারও সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানরা।
হিউস্টনের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে জার্মানি। মাত্র ছয় মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যদিও ২১ মিনিটে লিভানো কোমেনেন্সিয়া গোল করে কুরাসাওকে সমতায় ফেরান এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের দেশের প্রথম গোলের কীর্তি গড়েন।
তবে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরপর পুরো ম্যাচজুড়ে জার্মানদের একচেটিয়া আধিপত্য দেখা যায়। দ্রুতগতির আক্রমণ, নিখুঁত পাসিং এবং দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার ভেঙে দেয় তারা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগেই স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল ৭-১ ব্যবধান।
এই জয় শুধু বড় ব্যবধানের নয়, ইতিহাসেরও অংশ। বিশ্বকাপের ৯০ বছরের ইতিহাসে মাত্র চারবার ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হয়েছে। সেই তালিকায় এখন দুবার জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। এর ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়গুলোর অন্যতম মালিক হয়ে উঠেছে দলটি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এবারের দলটি আক্রমণভাগে যেমন শক্তিশালী, তেমনি মাঝমাঠ ও রক্ষণেও রয়েছে ভারসাম্য। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সাত গোল করা দলটির আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্স জার্মান সমর্থকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে, কুরাসাওয়ের জন্য এই ম্যাচটি ছিল শেখার বড় সুযোগ। অভিষেক বিশ্বকাপেই তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের মুখোমুখি হয়েছে। বড় ব্যবধানে হারলেও নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করার গৌরব অর্জন করেছে দলটি। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে অনেক স্মরণীয় স্কোরলাইন রয়েছে। তবে ৭-১ সবসময়ই বিশেষ। কারণ এই সংখ্যা ফুটবল ইতিহাসে নাটকীয়তা, বিস্ময় এবং আধিপত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের জন্য এটি ছিল দুঃস্বপ্নের রাত, আর ২০২৬ সালে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির জন্য এটি হয়ে উঠল শক্তি প্রদর্শনের আরেকটি অধ্যায়।
বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন দাপুটে জয় জার্মানিকে শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ছন্দ ধরে রেখে তারা কতদূর যেতে পারে এবং ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে পারে কি না।