• হোম > উত্তর আমেরিকা | দক্ষিণ আমেরিকা | বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > হরমুজ দিয়ে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল ও ২০০ জাহাজ বের করে এনেছি, ইরান জানত না: ট্রাম্প

হরমুজ দিয়ে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল ও ২০০ জাহাজ বের করে এনেছি, ইরান জানত না: ট্রাম্প

  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১০:৪৪
  • ৫৪

হরমুজ দিয়ে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল ও ২০০ জাহাজ বের করে এনেছি, ইরান জানত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অত্যন্ত গোপনে বিপুল পরিমাণ তেলবাহী জাহাজ পারাপারে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল” তেল নিরাপদে হরমুজ পার করে এনেছে। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও তিনি একই ধরনের দাবি পুনরায় তুলে ধরেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, গত মাসে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একটি গোপন মিশনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে সহায়তা করা। তার দাবি, এই অভিযানের ফলে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে এবং ২০০-রও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যে গেছে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবিসি নিউজ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাস্তবে কত পরিমাণ তেল বা কতগুলো জাহাজ পার হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

ওভাল অফিসে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সম্প্রতি ২২টি জাহাজকে গভীর রাতে “আলো না জ্বালিয়ে” প্রণালিটি পার করে আনা হয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের রাডার ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বলেই এই অভিযান সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল তেল বের করে আনছি। আর এ কারণেই তেলের দাম ২৫০ ডলারে না গিয়ে ৮৫-৯০ ডলারে রয়েছে।”

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, হরমুজ প্রণালিতে এখন কার্যত মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “এই বিরাট সাফল্যের কারণ একটাই—হরমুজ প্রণালি এখন ইরান নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করছে।”

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। নিউইয়র্ক টাইমস ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র মূলত একটি সমন্বয় ও নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচি চালাচ্ছিল। এর আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ রুট সংক্রান্ত তথ্য পেত। কিছু জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজেদের ট্রান্সপন্ডারও বন্ধ রেখেছিল।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি “প্রজেক্ট ফ্রিডম” ধরনের সরাসরি সামরিক এসকর্ট অভিযান নয়, বরং তথ্য ও সমন্বয়ভিত্তিক নিরাপত্তা সহায়তা ব্যবস্থা। মে মাসের শুরুতে ট্রাম্প হরমুজ দিয়ে জাহাজ পারাপারে সহায়তার ঘোষণা দিলেও, সেটি দ্রুতই সীমিত আকারে নামিয়ে আনা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে বাস্তব সামরিক কার্যক্রম, জ্বালানি বাজার এবং রাজনৈতিক বার্তা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মিশে গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম এবং ইরানকে কেন্দ্র করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই দাবিগুলো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে ট্রাম্প আরও বলেন, এতদিন তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন, কারণ মিশনটি “নষ্ট করতে চাননি”। তার ভাষায়, “এখন আমি বলছি, কারণ ইরান বিষয়টি জেনে গেছে।”

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়েই যাতায়াত করে। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক তেলের দাম ও অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11377 ,   Print Date & Time: Friday, 21 August 2026, 03:28:53 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh