![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কার্যক্রমে সরাসরি নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা ও প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেই ব্যাংকটিতে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানানো হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম, পরিচালন কাঠামো, আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিস্থিতির ওপর আরও ঘনিষ্ঠ নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেছে।
পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আর্থিক কার্যক্রম এবং নীতিগত বিষয় সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে নিয়মিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণ প্রদান করবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংক হওয়ায় এর যেকোনো প্রশাসনিক পরিবর্তন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত সরাসরি লাখো গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগকে একটি সতর্কতামূলক এবং নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে গ্রাহক ও আমানতকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।