![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হয় এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজে বিনিয়োগ করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১১ জুন উপস্থাপিত হতে যাওয়া বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য কর, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে সহজ করার নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ডিজিটাল করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আমদানি নীতিমালা ও রপ্তানি নীতিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য সহজীকরণ কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত বাধা দূর করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে দ্রুত সেবা পাবেন।
দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভ দেশে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম উদ্বেগ ছিল লাভ প্রত্যাবর্তনের জটিলতা। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আনতে পারলে বিনিয়োগের ওপর ১.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার দেশের বন্দর, লজিস্টিকস ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় বিনিয়োগ করছে। লালদিয়া টার্মিনাল, বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় ও সময় কমানো হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বড় জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরে ভিড়তে পারবে, যা রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগের সরকারের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের নেতিবাচক প্রভাব এখনও অর্থনীতিতে রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। তিনি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।