• হোম > বাংলাদেশ > নৌপথে শুল্কহার বাড়ছে প্রভাব পড়বে কৃষি, শিল্প কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য পরিবহন ব্যয়ে

নৌপথে শুল্কহার বাড়ছে প্রভাব পড়বে কৃষি, শিল্প কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য পরিবহন ব্যয়ে

  • বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১০:৫২
  • ৬২

নৌপথে শুল্কহার বাড়ছে প্রভাব পড়বে কৃষি, শিল্প কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য পরিবহন ব্যয়ে

দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে বিভিন্ন সেবার শুল্কহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে নৌপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং এর প্রভাব শিল্প, কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে পড়তে পারে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৯ সালে নৌপথের শুল্কহার সমন্বয় করা হয়েছিল। দীর্ঘ সাত বছর পর রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সরকার নতুন ট্যারিফ কাঠামো অনুমোদন করেছে। এ বিষয়ে গত ১২ মে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন শুল্কহার অনুযায়ী দেশীয় কার্গো, বাল্কহেড, ফেরি ও ফ্ল্যাটজাতীয় নৌযানের কনজারভেন্সি চার্জ প্রতি গ্রস টনে ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে, যা ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি। বিদেশি পতাকাবাহী পণ্যবাহী নৌযানের ক্ষেত্রে প্রতি গ্রস টনের চার্জ ২১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ২৮১ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে পাইলটেজ ফি প্রতি বিট ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে চরগজারিয়া ও আজাদ বাজার রুটে বড় পণ্যবাহী নৌযানের পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বার্থিং ও মুরিং চার্জে। নতুন কাঠামোয় ৫০০ টন পর্যন্ত নৌযানের জন্য বার্থিং চার্জ ৩০০ টাকা, ৫০১-১,০০০ টনে ৫০০ টাকা, ১,০০১-২,৫০০ টনে ১,০০০ টাকা এবং ২,৫০০ টনের বেশি নৌযানের জন্য ২,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মাঝারি আকারের পণ্যবাহী নৌযানের ক্ষেত্রে চার্জ ১০৮ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মুরিং চার্জও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ১,০০১ থেকে ২,৫০০ টন ধারণক্ষমতার নৌযানের ক্ষেত্রে ৫৩ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ গুনতে হবে।

পণ্য ওঠানামা বা ল্যান্ডিং-শিপিং চার্জেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রতি টনের জন্য যেখানে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা আদায় করা হতো, সেখানে এখন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য প্রতি টনে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই খাতে চার্জ বেড়েছে প্রায় ১০৩ শতাংশ। এছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত জেটি বা ফোরশোর দিয়ে পণ্য ওঠানামার ক্ষেত্রেও নতুন চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, নতুন শুল্কহার কার্যকর হলে সিমেন্ট, পাথর, বালি, কয়লা, সার, খাদ্যশস্য এবং শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনের ব্যয় বাড়বে। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে এসব পণ্য পরিবহনে প্রধানত ৫০০ থেকে ২,৫০০ টন ধারণক্ষমতার নৌযান ব্যবহার করা হয়। ফলে বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত শিল্প উৎপাদন খরচ এবং ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যমূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নৌপথনির্ভর উপকূলীয় জেলাগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দ্য চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ইতোমধ্যে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। নৌপথে নতুন শুল্ক আরোপ শিল্প খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে এবং পণ্য সরবরাহ ব্যয় বাড়াবে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক একে এম আরিফ উদ্দিন জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর শুল্কহার সমন্বয়ের কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা ছয়-সাত বছর পিছিয়ে গেছে। এ সময়ে জ্বালানি, শ্রমিক মজুরি, ড্রেজিং, ঘাট ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নৌপথ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা হলেও নতুন ট্যারিফ কাঠামোর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে। এর প্রভাব শিল্প উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে। ফলে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই শুল্কবৃদ্ধি ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11300 ,   Print Date & Time: Sunday, 13 September 2026, 03:35:57 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh