![]()
দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন পুনঃ অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত ৫ বছর মেয়াদি এই আবর্তনযোগ্য তহবিলের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের বিস্তৃত গ্রাম বাংলার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল পাবে। তবে কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণের সর্বোচ্চ সরল সুদ হার হবে ৮ শতাংশ। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা কোনো স্থাবর জামানত ছাড়াই কেবল শস্য ও ফসল দায়বদ্ধকরণের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একক ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া নারী ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য সহজ শর্তে ব্যক্তিগত বা সামাজিক জামানতের মতো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কোনো খেলাপি বা পুরাতন ঋণ সমন্বয়ের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না এবং একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ তিনবার এই সুবিধা পাবেন।
খাতভিত্তিক ঋণসীমা :
নতুন এই স্কিমের আওতায় একজন প্রকৃত কৃষক শস্য খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, পল্লী ঋণ খাতে ১৫ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে ২০ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১৮ মাস, যার মধ্যে ৩ মাসের রেয়াতকাল (গ্রেস পিরিয়ড) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে ৮ শতাংশের বেশি সুদ নিলে বা তহবিলের অপব্যবহার হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ জরিমানা ধার্য করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে এই সুবিধায় অংশ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে।