![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের নেতা সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলকে সংযত করার এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র ওপর চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন।
সোমবার Axios-এর সাংবাদিক বারাক রাভিদ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কোন কোন দেশের নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি বলেন, “এই দেশগুলো অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিল। আমরা যে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছি, তা তারা বেশ পছন্দ করেছে।”
ইসরায়েলের প্রতি নিজের অবস্থান তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন যে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছি, ‘বিবি, তোমার সাবধান হওয়া উচিত, অন্যথায় তুমি খুব শিগগিরই একা হয়ে পড়বে।’”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে খুব শেষ মুহূর্তে অবহিত করেছিল। যদিও বর্তমানে হামলা বন্ধ রয়েছে, তবে নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানের কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, তেহরান বার্তা দিয়েছে যে ইসরায়েল হামলা বন্ধ রাখলে তারাও আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে না।
ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের ফোন করে জানিয়েছে যে তারা আর কোনো হামলা চালাচ্ছে না এবং ইসরায়েলকেও যেন আর হামলা না করতে বলা হয়, সেই অনুরোধ করেছে।”
এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো সামরিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা।