• হোম > অর্থনীতি | এস এম ই | ওমেন এন্টারপ্রেনার | প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ > বাজেটে আসছে সৃজনশীল অর্থনীতির মহাপরিকল্পনা

বাজেটে আসছে সৃজনশীল অর্থনীতির মহাপরিকল্পনা

  • মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ০০:৫৬
  • ১৪২

---
নাবিল আহমেদ দিপ

সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে চলচ্চিত্র, নাচ, গান, নাটক, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার, ভিডিও গেমসের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খাতগুলোকে বোঝানো হয়
৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
পূর্বাচলে ১০০ একরের ‘ক্রিয়েটিভ হাব
বিশ্ববাজারে ২ লাখ কোটি ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্য
৩০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ আসছে

দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের অন্ধকার পথ থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সৃজনশীল ধারায় ফিরিয়ে আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতের বুনিয়াদ গড়তে আগামী বাজেটে ৩০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বা থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের উন্নয়ন ভাবনায় সৃজনশীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা এবং এটি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।

সাধারণভাবে সৃজনশীল অর্থনীতি বলতে চলচ্চিত্র, নাচ, গান, নাটক, প্রকাশনা, বিজ্ঞাপন, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কারুশিল্প, নকশা, সফটওয়্যার, ভিডিও গেমসের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক খাতগুলোকে বোঝানো হয়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ‘সৃজনশীল অর্থনীতি আউটলুক-২০২৪’ শীর্ষক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৃজনশীল অর্থনীতি হলো এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে পণ্য ও সেবা তৈরি, উৎপাদন এবং বিপণনের মূল উপাদান হিসেবে মানুষের সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদকে ব্যবহার করা হয়। সরকার এই বুদ্ধিবৃত্তিক খাতকে এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পৃষ্ঠপোষকতার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি সৃজনশীলতার মাধ্যমে উচ্চমূল্য সংযোজন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে এই খাতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ব্র্যান্ডিং করা এবং অর্থনীতির মূলধারায় এর সম্পৃক্ততা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বর্তমানে উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিশ্বের বহু দেশে কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ সৃষ্টি ও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বড় অবদান রাখছে এই সৃজনশীল অর্থনীতি। তবে বাংলাদেশ এই সম্ভাবনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা
সৃজনশীল অর্থনীতি কেন হঠাৎ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান পেল, তার একটি বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন নীতিনির্ধারকেরা। প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এই প্রসঙ্গে জানান, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী যেন ক্ষতিকর পথ পরিহার করে গঠনমূলক ও নান্দনিক কাজে যুক্ত থাকে, সেটিই বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের মূল ভাবনা। এই ভাবনার পেছনে মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট দিক রয়েছে।

প্রথমত, তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথ সুগম করা এবং তাদের মাদক, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখা। আর এর জন্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার চেয়ে বড় কোনো হাতিয়ার হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, এই সৃজনশীল কাজগুলোকে কেবল শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তরুণরা যেন পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা। উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে, অতীতে এই খাতে কোনো ধরনের বড় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না। তবে বর্তমান সরকার অর্থমন্ত্রীসহ সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে দেশে একটি সুসংগঠিত সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নিয়ে একটি যুগোপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ইশতেহারে বলা হয়েছিল, দেশের মোট জিডিপিতে সৃজনশীল খাতের অবদান ন্যূনতম ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং এর মাধ্যমে অন্তত ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এই কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ‘বাংলাদেশ ক্রিয়েটিভ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ বা বাংলাদেশ সৃজনশীল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ড চালু করার প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সরকারি তৎপরতা
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ইতিমধ্যেই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের নিয়ে দুই দফায় নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ মে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান খালেদ ফয়সাল ‘সৃজনশীল অর্থনীতি ও বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শিরোনামে একটি তথ্যবহুল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে জিডিপি এবং কর্মসংস্থানে এই খাতের প্রকৃত অবদান কত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান বা ডাটাবেজ নেই। এই খাতকে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

পরবর্তী সময়ে ২৩ মে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে কোন মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর কোন কাজ বাস্তবায়ন করবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের নীতিগত তদারকির জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় কমিটি’ এবং দৈনন্দিন কাজের সমন্বয়ের জন্য অর্থ বিভাগের অধীনে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রথম বৈঠকে অংশ নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব দেন। তিনি ঢাকার পূর্বাচলে ১০০ একর জমির ওপর একটি বিশাল সৃজনশীল বিনোদনকেন্দ্র এবং দেশের ৫৫০টি উপজেলায় সাংস্কৃতিক মঞ্চ, বইয়ের দোকান, সিনেপ্লেক্স ও ক্যাফেটেরিয়াসমৃদ্ধ সৃজনশীল কেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ চলচ্চিত্রশিল্পকে চাঙ্গা করতে সরকারি ভর্তুকি ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ওপর জোর দেন। একই বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব কানিজ মওলা হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী যাত্রা ও সার্কাস শিল্পের পুনরুজ্জীবনের দাবি জানান এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাহিদ মঞ্জুরা আফরোজ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও ষড়ঋতুভিত্তিক মেলার আয়োজন করার প্রস্তাব করেন।

মহাপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা
অংশীজনদের এসব প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে সরকার বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছে। সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ঢাকার পূর্বাচলে ১০০ একর জায়গার ওপর একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ বা সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে। দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সৃজনশীল কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ব্র্যাক যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে।

উচ্চশিক্ষার স্তরে নতুন ভাবনার বিকাশে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের সরকারি কলেজগুলোতে উদ্ভাবন বা ইনোভেশন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যার পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা খালি ও অব্যবহৃত প্লটগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ ও সৃজনশীল কার্যক্রমের কেন্দ্রে রূপান্তর করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। এ ছাড়া ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না ও টেরাকোটার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোকে চিহ্নিত করার কাজও করবে বিসিক। দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় ডিজাইনারদের নিয়ে একটি ‘জাতীয় পুল’ গঠনের প্রস্তাব দেবে জয়িতা ফাউন্ডেশন। ঢাকার বহুতল ভবন এবং ছয়টি বিভাগীয় শহরে জয়িতা ফাউন্ডেশনের নিজস্ব জমিতেও এই সৃজনশীল কেন্দ্রগুলো গড়ে তোলা হবে।
পর্যটন খাতের সামগ্রিক বিকাশ ও বৈচিত্র্য আনতে ট্যুরিজম বোর্ড একটি সমন্বিত ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। পর্যটন শিল্পের পেশাদারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে কক্সবাজারে একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে পর্যটন কর্পোরেশন। পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপনাগুলো পুনরুদ্ধার করে সাংস্কৃতিক পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং একটি ‘জাতীয় উৎসব ক্যালেন্ডার’ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে।

চিহ্নিত সম্ভাব্য খাতসমূহ
অর্থ বিভাগ সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় খাতকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে লোকসংগীত, লোকনৃত্য, পালাগান ও জারিগানের মতো লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। হস্তশিল্পের মধ্যে রয়েছে শীতলপাটি, মাটির কাজ, বাঁশ ও বেতশিল্প। উৎসবের মধ্যে বাংলা নববর্ষ ও গ্রামীণ মেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পারফর্মিং আর্টসের মধ্যে থিয়েটার, নাটক, নৃত্য, চিত্রকলা ও ভাস্কর্য স্থান পেয়েছে। মিডিয়া খাতের মধ্যে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি অন্যতম।
প্রকাশনা শিল্পের বই, জার্নাল ও অনলাইন ব্লগ; ডিজাইন খাতের গ্রাফিক ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন; এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সফটওয়্যার ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্টকে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ইকো-ট্যুরিজম, ফ্যাশন ডিজাইন, বুটিক, জুয়েলারি, লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড এবং করপোরেট খাতের ডিজিটাল মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন সংস্থাকেও এই সৃজনশীল অর্থনীতির আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

বৈশ্বিক চিত্র ও দেশীয় চ্যালেঞ্জ
অর্থ বিভাগের ধারণাপত্র অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সৃজনশীল অর্থনীতির বাজার অত্যন্ত বিশাল। আঙ্কটাডের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী এই খাত থেকে বার্ষিক আয় হয় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি, যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০২২ সালে বিশ্ববাজারে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারের সৃজনশীল সেবা রপ্তানি হয়েছে, যার ৪১ শতাংশই এসেছে সফটওয়্যার খাত থেকে। একই বছর ৭১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের সৃজনশীল পণ্য রপ্তানি হয়েছে। বৈশ্বিক জিডিপিতে এই খাতের অবদানে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইন্দোনেশিয়া (৭.২৮%), ফিলিপাইন (৭.৩%), যুক্তরাষ্ট্র (৪.২%) ও ভারত (২.৫%)। এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও সরকার আগামীতে জিডিপিতে এর অবদান ১.৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চায়।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্থ বিভাগ মনে করে, দেশে মেধাস্বত্ব বা কপিরাইট সুরক্ষার আইনগত ও প্রায়োগিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। এই খাতের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান, সমন্বিত নীতিমালা বা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নেই। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশে মানসম্পন্ন ল্যাব বা আধুনিক স্টুডিওর অভাব এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মনিটাইজেশন কাঠামো দুর্বল হওয়াও অন্যতম বড় বাধা।

এই সংকট উত্তরণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে একটি বিশেষ ‘স্টার্টআপ তহবিল’ গঠন করতে পারে, তবে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। সরকারকে এখানে মূলত সহায়তাকারীর বা ‘ফ্যাসিলিটেটর’ ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে ১০ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং জাতীয় নীতিকাঠামো তৈরি করা জরুরি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11252 ,   Print Date & Time: Tuesday, 8 September 2026, 11:03:54 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh