• হোম > এশিয়া > ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

  • সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ১২:০৯
  • ৬৪

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকালে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেনারেল সান্তোস শহরের একটি রেডিও স্টেশন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে অনেক এলাকায় ঘরবাড়ির আসবাবপত্র পড়ে যায় এবং টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।

স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে সারাঙ্গানি প্রদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক মূল্যায়ন চলছে।

ফিলিপাইনের ভূকম্পন সংস্থা ফিভলকস সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্পের কারণে এক মিটার বা তার বেশি উচ্চতার সুনামি ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে, যা কয়েক ঘণ্টা ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার ভূ-ভৌতিক সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত খুব সামান্য উচ্চতার ঢেউ শনাক্ত হলেও বড় কোনো সুনামির লক্ষণ দেখা যায়নি।

ভূমিকম্পের সময় সারাঙ্গানি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি অনুষ্ঠান চলছিল বলে জানা গেছে। আলাবেল শহরের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, কম্পনের সময় ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয় কর্মকর্তারা একে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস প্রথমে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৮ দশমিক ২ বলে জানালেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৮ নির্ধারণ করে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।

ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম বেশি ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উপকূলীয় জনগণকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11225 ,   Print Date & Time: Saturday, 26 September 2026, 07:28:54 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh