• হোম > বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > ‘সিদ্ধান্ত আমিই নিই, ইরানের সঙ্গে চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর কোনো উপায় নেই’: ট্রাম্প

‘সিদ্ধান্ত আমিই নিই, ইরানের সঙ্গে চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর কোনো উপায় নেই’: ট্রাম্প

  • সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ১২:০৪
  • ৬২

‘সিদ্ধান্ত আমিই নিই, ইরানের সঙ্গে চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর কোনো উপায় নেই’: ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে তা মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে কৌশলগত সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ওয়াশিংটনের হাতেই রয়েছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য নেতানিয়াহুকে সতর্কও করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেন। তিনি বলেন, “তার (নেতানিয়াহুর) কোনো বিকল্প থাকবে না। সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সে সিদ্ধান্ত নেয় না।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ও অ্যাক্সিওসকে দেওয়া পৃথক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এবং আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন, “অপেক্ষা করুন। আমরা একটি ইতিবাচক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী প্রথমে আপত্তি তুললেও পরে সাময়িকভাবে সংযত অবস্থান নিতে সম্মত হন।

ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নষ্ট হয়নি বলে মনে করেন ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, “এটি চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।” তার মতে, ইরান-ইসরায়েল বৈরিতা দীর্ঘদিনের হলেও বর্তমান পরিস্থিতি এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রেখে দিয়েছে। তবে আগের তুলনায় এবার ট্রাম্পকে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আলোচনা চলছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।”

সম্ভাব্য কোনো চুক্তি ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাতে পারে, আবার কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধও বজায় রাখতে পারে। তার ভাষায়, “আমরা সামরিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি। আবার অবরোধও বজায় রাখতে পারি, যা অনেক সময় সরাসরি হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।”

সম্প্রতি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে হওয়া একটি টেলিফোন আলাপ নিয়েও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই আলাপচারিতায় ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প ফোনালাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে প্রকাশিত বিবরণের সরাসরি বিরোধিতা করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যৎ সমঝোতার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11221 ,   Print Date & Time: Saturday, 26 September 2026, 05:45:17 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh