![]()
ই_বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশে প্রতি বছর গরমের তীব্রতা বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের ক্লাইমেট চেঞ্জ নলেজ পোর্টাল এবং ল্যানসেট কাউন্টডাউনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ‘অনুভূত তাপমাত্রা’ বা হিট ইনডেক্স ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার ঘটনা গত দুই দশকে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে এই সংখ্যা ৪৬ দিন থাকলেও ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১২০ দিনে দাঁড়িয়েছে।
উচ্চ আর্দ্রতার কারণে বাংলাদেশের গরম মরুপ্রধান দেশগুলোর চেয়েও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বর্ষাকালে আর্দ্রতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়, ফলে ঘাম শুকানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে হিটস্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ২০২৪ সালেই তাপজনিত সমস্যার কারণে বাংলাদেশে প্রায় আড়াই কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে এবং এর অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১৩৩ থেকে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলার। কৃষিশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যারা বছরে গড়ে ৯২ দিন পর্যন্ত কাজের সুযোগ হারাচ্ছেন। নগরায়ন এবং বনভূমি উজাড়ের ফলে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব তৈরি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর অভিযোজন কৌশল গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।