• হোম > বাংলাদেশ > বন্ধ কারখানা চালু করার নিমিত্তে প্রণোদনা প্রদান শেষ পর্যন্ত তেলে মাথায় তেল দেয়াই উদ্দেশ্য নয়তো!

বন্ধ কারখানা চালু করার নিমিত্তে প্রণোদনা প্রদান শেষ পর্যন্ত তেলে মাথায় তেল দেয়াই উদ্দেশ্য নয়তো!

  • রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ১৬:৩৪
  • ৮৯

বন্ধ কারখানা চালু করার নিমিত্তে প্রণোদনা প্রদান শেষ পর্যন্ত তেলে মাথায় তেল দেয়াই উদ্দেশ্য নয়তো!

বন্ধ কারখানা চালু করার নিমিত্তে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ বা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। আমি এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছি। এ সরকার ইতোপূর্বে খুবই সহজ শর্তে (মাত্র ১% ডাউনপেমেন্ট দিয়ে) খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দিয়েছে। তারপর এই প্যাকেজ বা প্রণোদনা ঘোষণা যা সঠিক ভাবে প্রয়োগ করলে কারখানা মালিকদের অনেক সুফল দিবে, দেশের অর্থনৈতিক খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। বর্তমানে মূলতঃ চারটি কারণে অনেক কারখানা সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে বন্ধ রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বহু কারকানা জনরোষের কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বৈশ্বিক মন্দা, বর্তমানে সাসটেইনেবল না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পুঁজি সরানোর জন্য অনেক শিল্প কারখানা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ ও উপযুক্ত কমিটির দ্বারা সুপারিশের মাধমে দ্রুত এই প্যাকেজ প্রদান করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ভাবে পুঁজি সরানো কারখানা গুলোকে বাদ দিয়ে শুধু সম্ভাবনাময় কারখানা গুলো অর্থাৎ যেগুলো অর্থায়ন করলে টিকে থাকতে পারবে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে কেবল এমন কারখানা গুলোকেই প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। প্রণোদনা নিয়ে যেমন কালক্ষেপণ করা ঠিক হবে না, তেমনি এর যেন অপব্যবহার বা পক্ষপতিত্ব না হয় এবং অনুপযুক্ত কেউ কোন বিবেচনায় যেন প্রণোদনা না পায় সেটা নিশ্চিৎ করতে হবে। করোনার প্রণোদনা নিয়ে অনেক অপব্যবহার হয়েছে। আশা করবো এবার যেন এমন কিছু না হয়। আর এই প্রণোদনা ফেরতের সহজ অথচ কার্যকর নীতিমালা থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে এগুলো রাষ্ট্রের টাকা, তা কোন ভাবেই অপচয় বা লোপাট না হয়। কারা এর আওতায় কত টাকা পেলো তা প্রকাশ করতে হবে। তাহলে বিতরণের স্বচ্ছতা অনেকটা রক্ষা করা যাবে।

সরকারের ঘোষিত এই ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণাকে উপরের উল্লেখিত শর্ত সাপেক্ষে সমর্থন করায় অনেকেই আমার সাথে ভিন্ন মত প্রশন করেছেন। কেউ কেউ অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এটার অপব্যবহার নিয়ে ইনবক্সেও তাদের কনসার্ন জানিয়েছেন। আমি তাঁদের উদ্বিগ্ন হবার কারণ বুঝি। ঝুঁকি যে একেবারে নাই সেটাও বলবো না। তবে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে কিছু ঝুঁকি তো নিতেই হবে। ব্যক্তি হিসাবে দুর্বৃত্ত ও ব্যাংক লুটকারীদের সমর্থন করি না। যারা ইচ্ছাকৃত রুগ্ন ও অর্থ পাচারকারী এবং অর্থায়ন করলেও যে প্রতিষ্ঠান সাসটেইনেবল হবে না তাদেরকে প্রণোদনা দেবার আমিও বিরোধী। কিন্তু ঘোষিত স্টিমুলাস প্যাকেজটি ঠিকভাবে প্রদান করা সরকারের কাজ। লুটপাট কিছুতেই সমর্থন যোগ্য না। আগের সরকার যদি সঠিক ও কঠিন মনিটরিং করতো তাহলে আর্থিক খাত এতটা খারাপ হতো না। বালিশ কাণ্ডের মতো বিষয় গুলোকেও কঠোর ভাবে শায়েস্তা করার প্রয়োজন ছিল, সরকারের শীর্ষ পর্যায় সব জেনেও চুপ ছিল। এটাও মিথ্যা না যে এদেশে প্রণোদনা শুধু বড়রাই পায়, ছোটদের কথা কেউ ভাবে না। কিন্তু একটি সিদ্ধান্ত পুনরায় আবার ভাবার বিষয় সেটা হলো এই প্যাকেজ বা প্রণোদনা কোন ঋণ খেলাপী প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে না, তাহলে ভালো ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান উপরের কোন অনিয়ন্ত্রিত কারণে বন্ধ বা খেলাপি হয়ে থাকলে তাকে যদি চালু করতে প্রণোদনা নাই দেয়া হয়, তাহলে এই প্রণোদনা আসলে কাদের জন্য ও কেন? তেলে মাথায় তেল দেয়াই এর উদ্দেশ্য নয় তো? এটি একটি বড় প্রশ্ন। বন্ধ খেলাপি প্রতিষ্ঠানকেও প্রণোদনা দিতে হবে উপরের উল্লেখিত যৌক্তিক কারণে। নইলে প্রণোদনার উদ্দেশ্য সফল ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে না।

মোহাম্মদ ইকবাল জামাল


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11190 ,   Print Date & Time: Friday, 16 October 2026, 03:31:49 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh