• হোম > বাংলাদেশ > বাজেট ২০২৬-২৭: ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়তে নতুন অর্থনৈতিক মডেল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বড় পরিকল্পনা

বাজেট ২০২৬-২৭: ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়তে নতুন অর্থনৈতিক মডেল, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বড় পরিকল্পনা

  • শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ১৯:৫৩
  • ৬৯

---
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার নতুন অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, সরকারের মূল দর্শন হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে। এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এজন্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আলোচনায় রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্প ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে।

অর্থনীতির পাশাপাশি কৃষি খাতকে নতুন করে শক্তিশালী করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। তিতুমীর বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রধান জীবিকার উৎস। তাই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের জন্য সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়িয়ে জনসেবার মান উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকরা মনে করেন, আগামী বাজেটকে অবশ্যই সংস্কারমুখী এবং বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। তারা কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11145 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 10:08:12 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh