![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরান-এর সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রাথমিক সামরিক সক্ষমতার প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলস-এ সম্প্রচারিত এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী মনে করত এবং আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সামনে সমঝোতার পথে এগোনো ছাড়া অন্য কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অধিকাংশ ড্রোন কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং উৎক্ষেপণ ঘাঁটি ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে এবং দেশটি পুরোপুরি সামরিক সক্ষমতা হারায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি এবং পারস্পরিক হামলার কারণে পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ট্রাম্প বলেন, এমন জটিল সংঘাতের সমাধান দ্রুত হয় না এবং একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
সংঘাতের সময়কাল নিয়ে তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধ-এর উদাহরণ টেনে বলেন, বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানে অনেক সময় বছর লেগে যায়। তার মতে, মাত্র কয়েক মাসের পরিস্থিতি দেখে দ্রুত ফলাফল প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—একটি হলো কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে সমাধান খোঁজা, আর অন্যটি আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে বিকল্প কঠোর পথটি কারও জন্যই সুখকর হবে না।