![]()
নিচে প্রতিবেদনটি সংবাদধর্মী, সংক্ষিপ্ত ও সাবলীল অনুচ্ছেদ আকারে পুনর্লিখন করা হলো—
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব নাকচ করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বৈঠকের কোনো অর্থ তিনি দেখছেন না। বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি এক খোলা চিঠিতে যুদ্ধবিরতি ও মুখোমুখি আলোচনার আহ্বান জানানোর পর সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন এ প্রতিক্রিয়া জানান।
পুতিন বলেন, জেলেনস্কির চিঠির ভাষা ছিল ‘অভদ্র’ এবং এটি শান্তি আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেয়ে বৈঠক এড়ানোর কৌশল বলেই তার কাছে মনে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে, অথচ রাশিয়ার উত্থাপিত শর্তগুলো এখনো পূরণ হয়নি। তার মতে, সাময়িক নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানই প্রয়োজন।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আগে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে, এরপর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, রাশিয়ার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হলেই সামরিক অভিযান শেষ হবে।
পুতিনের এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া আবারও যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, পুতিনের মন্তব্যে বিশ্বের বহু মানুষ হতাশ হয়েছে এবং এটি প্রমাণ করে যে তিনি যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নন।
বর্তমানে রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টা পরিত্যাগ করতে হবে। তবে কিয়েভ এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে বলছে, কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে রাশিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে।
জেলেনস্কির খোলা চিঠিতে পুতিনের দীর্ঘ ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তার নেতৃত্বের সমালোচনা করা হয়। পাশাপাশি রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে কিছু ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করা হয়। পুতিন এসব বক্তব্যকে অসম্মানজনক বলে আখ্যা দেন।
তবে জেলেনস্কির এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলের কিছু অংশে শান্তি আলোচনার আশা তৈরি করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই নেতার সরাসরি বৈঠককে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা আজভ সাগর ও রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত উপকূলীয় এলাকায় পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো ইউক্রেনীয় শস্য, জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৭০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।