![]()
চট্টগ্রামে একটি আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, খেলাধুলাকে পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়া, নতুন প্রজন্মকে মাদক ও প্রযুক্তি আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং একটি সুস্থ, মেধাবী ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শুক্রবার (৫ জুন) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় পর্যায়ের প্রায় ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আগামী জুনের পর আরও ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যসেবা, বীমা সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মো. আমিনুল হক বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করার পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকেও দূরে রাখে।
তিনি আরও জানান, সরকার “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েরা সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছে।
ক্রীড়া কূটনীতির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিদেশি ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তুরস্কের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে প্রতিমন্ত্রী নগরীর পাহাড়তলী শহীদ শাহাজাহান মাঠে শহীদ জিয়া স্মৃতি উন্মুক্ত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।