![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, তপু বর্মনের জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল লাল-সবুজ বাহিনী
বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো ইতালির অভ্যন্তরে অবস্থিত ছোট্ট ইউরোপীয় দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এই জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন, যিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় বাংলাদেশ। আক্রমণ এবং বল দখলে সমানতালে লড়াই করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে জামাল ভূঁইয়াদের দল। ম্যাচের ১৯ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন তপু বর্মন। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
গোল হজমের পর সান মারিনো পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ৩১ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল গিয়াকোপেত্তি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ইংলিশ ফুটবলে খেলা বাংলাদেশি তারকা হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে বিশ্বনাথ ঘোষের শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে প্রতিহত হলেও বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত হেড করেন তপু বর্মন। বল জড়িয়ে যায় জালে। ২-১ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জয় নয়; এটি বাংলাদেশের ফুটবলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বড় একটি উপলক্ষ। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে জয়ের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে দলের মানসিক শক্তি বাড়াবে।
পরিসংখ্যানেও দুই দলের লড়াই ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বাংলাদেশ ৫৪ শতাংশ বলের দখল রাখে, যেখানে সান মারিনোর দখল ছিল ৪৬ শতাংশ। পাসিং, বল পুনরুদ্ধার এবং আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রেও দুই দল প্রায় সমান পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা এই জয়কে জাতীয় দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তির পর দলের খেলার মান ও আত্মবিশ্বাসে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা এই ম্যাচেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।