![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সাদা বলের সিরিজকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট লড়াইয়ের কাউন্টডাউন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামীকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামবে সফরকারী দল। এরপর ৯ জুন মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ১১ ও ১৪ জুন। ওয়ানডে সিরিজ শেষে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে নিয়মিত অধিনায়কসহ কয়েকজন অভিজ্ঞ তারকা ক্রিকেটার না থাকলেও দলটি যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ট্রাভিস হেড, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন ও অ্যাডাম জাম্পার মতো খেলোয়াড়রা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। ফলে ঘরের মাঠে খেললেও বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ মোটেও সহজ হবে না।
বাংলাদেশ দলও সিরিজকে সামনে রেখে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। ঘোষিত দলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে আসা এই ক্রিকেটারকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সিরিজে থাকা আফিফ হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন দল থেকে বাদ পড়েছেন।
বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে থাকবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার সঙ্গে রয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার ও তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এছাড়া পেস আক্রমণে থাকছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং উদীয়মান গতিতারকা নাহিদ রানা। স্পিন বিভাগে রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলামের ওপরও বিশেষ নজর থাকবে।
ক্রিকেটপ্রেমীরা মনে করছেন, ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশের স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। একইসঙ্গে ব্যাটিং বিভাগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে পারলে সিরিজে ভালো ফল অর্জনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট সিরিজ শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের দুই গুরুত্বপূর্ণ দলের মধ্যে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ দেশের ক্রিকেট অঙ্গন থাকবে এই সিরিজকে কেন্দ্র করে সরগরম।